আগে একগুচ্ছ পরিসংখ্যান দেখে নেওয়া যাক। উইন্টারথুর এই মৌসুমে ৩৩ ম্যাচের লিগে ৮৬টি গোল হজম করেছে, ম্যাচপ্রতি গড়ে ২.৬১টি করে। ভুল পড়ছেন না, সত্যিই ৮৬টি। পুরো সুইস সুপার লিগে আর কোনো দলের হজম করা গোলের সংখ্যা ৭০ ছাড়ায়নি। তাদের ম্যাচে মোট গোলের গড় ৩.৬৭টি, ওভার হওয়ার হার ৫০ শতাংশেরও বেশি। ঘরের মাঠে ১৬ ম্যাচে ৩৭ গোল হজম করেছে, গড়ে ২.৩১টি করে। এই দলের রক্ষণ যেন এমন এক দরজা, যা কখনোই ঠিকমতো বন্ধ হয় না।
লুসার্নের আক্রমণভাগও খুব একটা ভদ্র নয়। ৩৩ ম্যাচে করেছে ৬৪ গোল, ম্যাচপ্রতি গড় ১.৯৪টি। অ্যাওয়ে ১৬ ম্যাচে ২৬ গোল করেছে, আক্রমণ মাঝারি মানের হলেও সাম্প্রতিক চার অ্যাওয়ে ম্যাচের তিনটিতে মোট গোল ৩-এর বেশি হয়েছে। রেলিগেশন গ্রুপের প্লে-অফে তারা ৩ জয় ও ১ ড্র করেছে, ফর্মও ভালোই ধরে রেখেছে; চার ম্যাচে করেছে ৯ গোল।
দুই দলের শেষ দশ দেখায় ওভার হয়েছে সাতবার। সাতবার। এটা কাকতাল নয়, বরং দুই দলের মুখোমুখি হলে এক ধরনের নীরব সমঝোতা যেন কাজ করে। শেষবার ধনু রাশির মাঠে তাদের লড়াইয়ে স্কোরলাইন ছিল ৩-৪, মোট গোল সাতটি। তার আগেও ২-২, ১-৩, ৩-২—প্রতিটি সাক্ষাৎই যেন জালে বল জড়ানোর আগাম চুক্তি ছিল।
উইন্টারথুরের এই হোম ম্যাচে মানসিক চাপ নেই, আর বিদায়ের এই রাতে নিজেদের সমর্থকদের জন্য একটি উপভোগ্য ম্যাচ উপহার দেওয়াই ভালো। লুসার্নেরও এখনও তাত্ত্বিকভাবে কাজ বাকি আছে, তাই তারা এক পয়েন্টে সন্তুষ্ট হবে না।
দুই দলের রক্ষণই ভরসাযোগ্য নয়, তবে আক্রমণভাগে দু’দলেরই নিজস্ব ধার আছে। ধনু রাশির মাঠের শেষ রাতটা যেন নিস্তেজভাবে শেষ হবে না, তা বলাই যায়।