মিশর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৯তম, আর তাদের স্কোয়াডের মূল্য মূলত সালাহসহ ইউরোপে খেলা কয়েকজন তারকার ওপর কেন্দ্রীভূত। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে তারা গড়ে ১১টি শট নিয়েছে, আর শট অন টার্গেটের হার ৩২%। আক্রমণে তাদের ভরসা মূলত উইং ভেদ করে এগোনো ও কাউন্টার অ্যাটাকে ফিনিশিং, তবে স্থির রক্ষণ ভেঙে প্রতিপক্ষের ঘনবদ্ধ ডিফেন্সের বিপক্ষে তাদের শট কনভার্সন মাত্র ১২%। সেন্টার-ব্যাকদের ঘুরে দাঁড়ানোর গতি তুলনামূলক ধীর হওয়া এবং বক্সে দ্বিতীয় বল রক্ষায় ঘাটতি থাকা—এগুলোই রক্ষণভাগের প্রধান ঝুঁকি। ইরান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২১তম, এশিয়ান ফুটবলে সর্বজনস্বীকৃত শীর্ষ প্রতিরক্ষামূলক শক্তিগুলোর একটি। দুই ম্যাচে তারা গড়ে ১৮টি ইন্টারসেপশন ও ২২টি ক্লিয়ারেন্স করেছে; লো-ব্লকে তাদের রক্ষণাত্মক গঠনের কমপ্যাক্টনেস অত্যন্ত উঁচু মানের। গোলরক্ষক বেইরানভান্দ এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭টি সেভ করেছেন, আর ফরোয়ার্ড তারেমির কাউন্টার-আক্রমণ থেকে ফিনিশ করার দক্ষতা এশিয়ার শীর্ষ সারিতেই রয়েছে।
ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে মিশর ৪-২-৩-১ পাসিং-ভিত্তিক সিস্টেমে খেলে। তারা সাধারণত প্রায় ৫৫% বল দখলে রাখতে পারে, কিন্তু মাঝমাঠে বল এগিয়ে নেওয়ার গতি তুলনামূলক ধীর। ইরানের নমনীয়ভাবে বদলানো ৫-ডিফেন্ডারসহ সঙ্কুচিত রক্ষণভাগের বিপক্ষে, মিশরের পক্ষে মাটিতে বলের পাসিং দিয়ে গভীর এলাকায় হুমকি তৈরি করা কঠিন হবে। ইরানের কৌশলগত পরিচয় খুবই স্পষ্ট—মাঝমাঠে কাছাকাছি চাপ দিয়ে প্রতিপক্ষের পাসিং ও কন্ট্রোলের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া, তারপর উইং থেকে দৌড়ানো ও তারেমির পিভট-ভূমিকার মাধ্যমে ট্রানজিশন আক্রমণ করা। তাদের শক্তিশালী শারীরিক দ্বৈরথ সালাহর বল ধরে খেলার জায়গা কার্যকরভাবে সংকুচিত করতে পারে, ফলে কৌশলগত প্রতিরোধের দিকটি খুবই স্পষ্ট।
মার্কেট লাইনের প্রবণতা দেখলে দেখা যায়, শুরুতে -০.২৫ হ্যান্ডিক্যাপ দিয়ে লাইন খোলার পর থেকে অর্থপ্রবাহ ক্রমেই ইরানের পক্ষে সরে গেছে, আর মিশরের পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়ার প্রতি বাজারের আস্থা ধীরে ধীরে কমেছে। অনুপ্রেরণার দিক থেকেও ইরানকে কেবল জিতলেই যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে, তাই তাদের আক্রমণাত্মক তাগিদ বেশি। অন্যদিকে, ড্র করলেই মিশর যোগ্যতা অর্জনের জন্য কিছুটা নিরাপদ অবস্থানে থাকবে, ফলে তাদের কৌশলগত ভঙ্গি তুলনামূলক রক্ষণশীল; এতে ম্যাচটি দীর্ঘ সময় ধরে গোলশূন্য বা সমানে সমানে লড়াইয়ের স্থবির অবস্থায় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে