এই ম্যাচে আমি সত্যিই ইরানের +0.25 হ্যান্ডিক্যাপকে ভালোভাবে দেখছি। ভাববেন না যে মিশরের কাছে সালাহ আছে বলে ওরা সহজেই জিতে যাবে, ব্যাপারটা মোটেও তেমন না।
আপনি ভাবুন, ইরানের সেই ডিফেন্স—গত ১৫ ম্যাচে গড়ে মাত্র ০.৮ গোল হজম করেছে, ক্লিন শিটের হার অর্ধেকেরও বেশি। এটা আন্দাজের কথা না, সত্যিই একটা সিস্টেম আছে। ওদের নিচু ব্লকে ডিফেন্সটা খুব টাইট, তিনটি লাইনই খুব কাছাকাছি থাকে, মাঝমাঠের সেই বাধা পেরোনো সত্যিই সহজ না। গত ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও ক্লিন শিট রাখতে পেরেছে, তাতেই বোঝা যায় এই ডিফেন্স কতটা শক্ত।
অন্যদিকে মিশরের কথা বললে, সালাহ অবশ্যই দুর্দান্ত, কিন্তু ফুটবল তো একা একজনের খেলা নয়, তাই না? দলের সামগ্রিক আক্রমণ দক্ষতা আসলে খুব বেশি না। বিশ্বকাপে তাদের শট কনভার্সন রেট ছিল মাত্র ৯ শতাংশের একটু বেশি, গড়ের নিচে। আর জানেন কি? মিশরের প্রথম সারির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারও নিষিদ্ধ, মাঝমাঠের সেই ঢালটাই নেই এখন, আক্রমণ থেকে রক্ষণে রূপান্তরেও প্রভাব পড়ছে। ইরানের মতো গুটিয়ে খেলা দলের বিপক্ষে এটা ভাঙা সত্যিই কঠিন।
আরেকটা ব্যাপার হলো, ম্যাচের মানসিকতা বা মোটিভেশনও ভাবতে হবে। মিশর ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, তাহলে কি আর জান লড়িয়ে লড়বে? ইরানকে যদিও নকআউটে উঠতে জিততেই হবে, কিন্তু ওরা ধৈর্যশীল, অযথা ঝাঁপিয়ে আক্রমণ করবে না। এই ধরনের ম্যাচের গতি ইরানের জন্যই সবচেয়ে আরামদায়ক।
অবশ্যই, ফুটবল গোলাকার খেলা—সালাহ যদি সত্যিই অতিমানবীয় কিছু করে বসে, তাহলে তাকে আটকানো কঠিন। কিন্তু সম্ভাবনা অনুযায়ী, ইরান এই এশিয়ান লাইনটা ধরে রাখতে পারবে বলেই মনে হচ্ছে, সমস্যা হওয়ার কথা না।